খেলাধুলা শিশুর একটি স্বাভাবিক প্রবৃত্তি। সুযোগ পেলেই তারা খেলাধুলায় মেতে ওঠে এবং অনাবিল আনন্দ উপভোগ করে। খেলাধুলার প্রতি শিশুর এ স্বাভাবিক প্রবণতা ও অফুরন্ত আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে ব্যক্তি ও সমাজ জীবনের উপযোগী করে গড়ে তোলা খুবই প্রয়োজন। খেলাধুলা ছাড়া শিশুর দেহ ও মনের সার্বিক বিকাশ সম্ভব নয়। তাই শিশুর পরিপূর্ণ বিকাশের লক্ষ্যে খেলাধুলাকে আমাদের অগ্রাধিকারের বিবেচনায় রাখতে হবে। স্বাভাবিক নিয়মে কোনো কিছুর প্রতি মানুষের মনোযোগ দীর্ঘক্ষণ থাকে না। একটানা অনেকক্ষণ শ্রেণিকক্ষের পড়াশোনা মনে বিরক্তির সৃষ্টি করে। এতে তাদের দেহ ক্লান্ত হয়ে পড়ে এবং পড়াশোনায় অমনোযোগী হয়। এ অবস্থা থেকে বের হওয়ার একমাত্র পথ হচ্ছে খেলাধুলা। এতে পাঠের একঘেয়েমি দূর হবে এবং মনের সজীবতা ফিরে আসবে। পরবর্তী কোনো কাজ আগ্রহ নিয়ে নতুন উদ্যমে করতে পারবে। সর্বোপরি খেলাধুলার মাধ্যমে শিশুচরিত্রের বৈশিষ্ট্য ফুটে ওঠে। সহপাঠী ও সমবয়সীদের সাথে খেলাধুলা করে ছেলেমেয়েদের সামাজিক মনোভাবের উন্নতি হয়। গৃহের সীমাবদ্ধ পরিবেশের বাইরে এসে তারা নিজেকে অপরের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে শেখে। খেলাধুলার নানাবিধ আইন-কানুন অনুসরণ করে, শৃঙ্খলা রক্ষা করে সময়মতো চলতে অভ্যস্ত হয়। খেলাধুলার মাধ্যমে নেতৃত্বদানের ক্ষমতা অর্জিত হয় এবং সমাজ ও দেশের প্রতি দায়িত্ববোধ জাগ্রত হয়।
কাজ-১ : তোমাদের এলাকার সমবয়সীদেরকে খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য তোমরা কী কী কাজ করতে পার? বর্ণনা কর। কাজ-২: খেলাধুলার মাধ্যমে কী কী গুণ অর্জিত হয়? বোর্ডে লিখে একজন ব্যাখ্যা কর। |